CORONA কোভিড-১৯ ভাইরাস

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ডিসেম্বর ২০১৯ এ সর্বপ্রথম চীনের হুবেই এর উহান শহরে রিপোর্ট করা হয় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

রোগ সম্পর্কিত তথ্য

করোনা ভাইরাস
(কোভিড-১৯)

কোভিড-১৯ এক নতুন রোগ যা আপনার ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর ক্ষতি করতে সক্ষম। করোনা ভাইরাস নামক ভাইরাসের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীন এর হুবেই প্রদেশের উহান শহরে এ রোগ প্রথম দেখা যায়।

এ রোগের সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসযন্ত্রের রোগের লক্ষণের ন্যায় শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, জ্বর, কাশি এবং সহজে হাঁপিয়ে যাওয়া। রোগের সংক্রমণের মাত্রা বেশি হলে নিউমোনিয়া, সিভিয়ার একিউট রেসিপিটরি সিন্ড্রোম, কিডনীর কাজ করা বন্ধ হয়ে যাওয়া এমনকি মৃত্যু ঘটাতে পারে।

এ রোগের সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত সাবান/এলকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা, হাঁচি বা কাশির সময় নাক ও মুখ ঢেকে ফেলা, ডিম ও মাংস অধিক সময় ধরে সিদ্ধ করে রান্না করা এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগের লক্ষণ যেমন হাঁচি কাশি আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে ।

কিভাবে করোনা ভাইরাস ছড়ায়

কোভিড-১৯
সংক্রমণ

করোনায় আক্রান্ত একজন মানুষ সক্রিয়ভাবে এই রোগ অন্যের মাঝে ছড়ায়। এজন্য বিশেষজ্ঞরা নির্দেশ দিয়ে থাকেন অসুস্থ রোগীকে সুস্থ মানুষের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে যেন হাসপাতাল অথবা বাড়িতে রাখা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সুস্থ হয় এবং অন্যের মাঝে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কামুক্ত না হয়।

আক্রান্ত কারো সাথে নিবিড় সংস্পর্শে আসলে

করোনা ভাইরাস অন্যান্য সংক্রামক রোগের মতো মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পরে। আক্রান্ত কারো সাথে নিবিড় সংস্পর্শে আসলে এটি ঘটতে পারে।

সংক্রমিত স্থান বা বস্তু ছুঁলে বা তার সংস্পর্শে এলে

কোন ব্যক্তি, ভাইরাস আছে এমন কোন স্থান বা বস্তু ছুঁলে বা তার সংস্পর্শে এলে এবং এরপর নিজের মুখ, নাক বা চোখ ছুঁলে তার কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

আক্রান্ত ব্যক্তির কফ বা হাঁচি-কাশি থেকে নিঃসরিত তরল থেকে

করোনা ভাইরাস অন্যান্য সংক্রামক রোগের মতো মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পরে। আক্রান্ত ব্যক্তির কফ বা হাঁচি-কাশি থেকে নিঃসরিত তরলের সংস্পর্শে আসলে এটি ঘটতে পারে।

কোভিড-১৯ এর লক্ষণ/ উপসর্গ কি কি?

কোভিড-১৯ এর লক্ষণ/ উপসর্গ

কোভিড-১৯ হয়েছে কিনা বুঝতে হলে সাধারণত জ্বর, ক্লান্তিময় ভাব এবং শুকনা কাঁশি উপসর্গ গুলো ধর্তব্যের মধ্যে আনতে হবে। কিছু রোগীদের মাঝে গায়ে ব্যথা, শ্বাসনালী সংক্রমন, সর্দি, গলা ব্যথা, ডায়ারিয়াও দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গগুলো শুরুতে হালকা ভাবে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আরো বাড়তে থাকে। এমনও দেখা যায় যে সংক্রমিত হওয়ার ২ থেকে ১৪ দিন পরেও এই উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে ।

জ্বর

তিব্র জ্বর – বুকে ও পিঠে স্পর্শ করলেই গরমভাব টের পাওয়া যাবে (থার্মমিটার দিয়ে মাপতে হবে না)। ২ থেকে ১০ দিনের মধ্য এই জ্বর জ্বর বোধ হওয়াই স্বাভাবিক। জ্বর জ্বর বোধ হওয়া কোভিড-১৯ এর বিভিন্ন উপসর্গের একটি।

কাঁশি

সারাক্ষণ কাঁশি – এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে অনেকবার কাঁশি হতে থাকা, এমনকি সারাদিন-রাত ধরে কাঁশতেই থাকা। এমন যদি হয় কারো আগে থেকেই কাঁশি থাকে তাহলে সেই কাঁশির মাত্রা আরো খারাপ ভাবে বেড়ে যাওয়া।

শ্বাসকষ্ট

শ্বাস নিতে কষ্টবোধ হওয়া – কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন ৬ জনের মধ্যে ১ জন খুব তাড়াতাড়ি ভীষনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগেন।

নিজ বাসায় থাকুন এবং ডাক্তারের সাহায্যে নিন: উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আপনি যদি মনে করেন, আপনি কোভিড -১৯ রোগে আক্রান্ত এবং আপনার জ্বর জ্বর বোধ হচ্ছে, কাঁশি হচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তাহলে স্বাস্হ্যসেবা পাওয়ার জন্য দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীকে ফোন করুন।

কিভাবে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন?

প্রতিরোধ
ও পরামর্শ

এখন পর্যন্ত এমন কোন টিকা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি যা দিয়ে করোনা ভাইরাস রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব ।এই অসুস্থতা থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় হল এই ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত না হওয়া । আমাদের উচিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সাম্প্রতিক তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকা।

ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিন

সাবান এবং পানি অথবা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ডরাব দিয়ে ভালোভাবে ২০ সেকেন্ড ধরে নিয়মিত নিজের হাত পরিষ্কার করুন ।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন

যদি কেউ কাশি অথবা হাঁচিরত অবস্থায় থাকে তাহলে তার থেকে সর্বনিম্ন ১ মিটার (৩ ফিট) দূরত্ব বজায় রাখুন। মনে রাখবেন যত কাছে থাকবেন আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা তত বেশি থাকবে।

নিজের মুখ স্পর্শ থেকে বিরত থাকুন

আমাদের হাত অনেক কিছু স্পর্শ করে বলে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভবনা থাকে। তাই হাত থেকে ভাইরাস আপনার চোখ, নাক অথবা মুখে চলে যেতে পারে এবং আপনাকে অসুস্থ করে দিতে পারে।

শ্বাস প্রশ্বাসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

হাঁচি অথবা কাশির সময় মুখ এবং নাক টিস্যু অথবা কনুই এর ভাঁজে ঢেকে রাখার মত ভালো শ্বাস প্রশ্বাসের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন।

অন্যদের বাঁচাতে নিম্নের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন।

  • অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন – অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বাহিরে যাওয়া ব্যতীত বাড়িতে থাকুন।
  • আপনার নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন – হাঁচি / কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু দিয়ে আপনার নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন (ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন)। টিস্যু না থাকলে আপনার কনুই এর বিপরীত পাশ দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকুন।
  • অসুস্থ হলে ফেইস মাস্ক পড়ুন – অসুস্থ হলে অন্য মানুষের সংস্পর্শে আসবেন এরূপ স্থানে (অন্য মানুষ থাকবে এমন ঘর বা যানবাহনে) ও হাসপাতালে প্রবেশের পূর্বে মাস্ক পরিধান করেন।
  • ঘন ঘন স্পর্শ করা হয় এমন স্থান ও বস্তু দৈনিক পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন – ঘন ঘন স্পর্শ করা হয় এমন স্থান ও বস্তু যেমনঃ মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার, লাইটের সুইচ, টেবিলের উপরিভাগ, বিভিন্ন বস্তুর হাতল, ডেস্ক, টয়লেট, পানির কল এবং বেসিন ইত্যাদি প্রতিদিন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন।
  • ঘন ঘন ময়লা হয় এরূপ স্থান জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখুন – ঘন ঘন ময়লা হয় এরূপ স্থান ডিটারজেন্ট অথবা সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।
  • নিজ এলাকার কোভিড-১৯পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত থাকুন – আপনার এলাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য গণস্বাস্থ্য কর্মীর নিকট হতে সংগ্রহ করুন।
  • নির্দিষ্ট পলিথিন দেওয়া ময়লার ঝুড়ি – অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সম্ভব হলে পলিথিন দেওয়া ময়লার ঝুড়ি নির্দিষ্ট করে দিবেন। ময়লা সরানো এবং ফেলে দেওয়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করবেন।

হাত ধোয়ার
ধাপসমূহ

হাত ধোয়া কেন প্রয়োজনীয় ?
হাতে সাবান নিন
দুই হাত ভালো ভাবে ঘষুন
আঙ্গুলের ফাঁকা স্থান যেন বাদ না পরে
হাতের উপরের অংশ ধুতে ভুলবেন না
পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
কব্জির দিকে খেয়াল রাখুন
সাবধান থাকুন। সুরক্ষিত থাকুন।

করোনা ভাইরাস এর চিকিৎসা

এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই। এরপরেও, কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসাসেবা নেয়া উচিত। গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। বেশীরভাগ রোগী সঠিক চিকিৎসা এবং যত্নে সুস্থ হয়ে উঠে।

অ্যান্টিবায়োটিক এক্ষেত্রে সাহায্য করে না, যেহেতু তা ভাইরাসের বিরুধ্যে কাজ করতে পারে না। বর্তমান চিকিৎসা রোগের উপসর্গ উপশম করার চেষ্টা করে যখন রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসেরবিরুধ্যে লড়াই করে। রোগীকে আইসোলেসন এ থাকতে হবে, অন্যদের থেকে দূরে থাকতে হবে যতদিন না সুস্থ হন।

নিজের সুরক্ষা

আপনার যদি উপসর্গগুলো হাল্কা ভাবে দেখা দেই, আপনার সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকা জরুরি। আপনার উপসর্গ উপশম হবে যদি আপনিঃ

  • যথেষ্ট বিশ্রাম নেন
  • উষ্ণ থাকেন
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন
  • গরম পানি দিয়ে গোছল ও গলা ব্যথার জন্য গড়গড়া করেন
চিকিৎসা

আপনার যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়, দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন। প্রয়োজনে আগে থেকে আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন এবং আপনি যদি সম্প্রতি দেশের বাইরে গিয়ে থাকেন বা দেশের বাইরে গিয়েছে এমন কারও সংস্পর্শে এসে থাকেন তা জানান।

করণীয় ও করবেন না

নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন

এইসময় সবচেয়ে যে কাজটি করলে ভাল হয় সেটা হলো, দৈনন্দিন কাজগুলোকে নিয়মের মধ্যে এনে আয়ত্ত করে ফেলা। নিজের নিরাপত্তার জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নিয়মিত হাত ধোয়া, কারো কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকা, কাঁশি বা হাঁচি হলে রুমাল দিয়ে ঢেকে অথবা কনুই দিয়ে ঢেকে হাঁচি দেওয়া, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা । এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে প্রতিহত করার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো বাসার বাহিরে বের না হওয়া, ঘরে থাকা।

কাছাকাছি / পারস্পরিক সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকুন
মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন
নিয়মিত হাত ধুয়ে ফেলুন
বেশি করে পানি পান করুন
ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন
সচরাচর জিজ্ঞাসা

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ
জিজ্ঞাসা ও উত্তর

নভেল করোনা ভাইরাস কি?

নভেল করোনাভাইরাস (সিওভি) হলো করোনাভাইরাসের এক নতুন প্রজাতি।

নভেল করোনাভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্ট এই রোগটি প্রথম চীনের উহানে চিহ্নিত হয়েছিল। ১১ই ফেব্রুয়ারী, ২০২০-এ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির নামকরণ করে করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (কোভিড-১৯) হিসেবে। করোনা থেকে ‘কো’ , ভাইরাস থেকে ‘ভি’, এবং ‘ডিজিজ’ বা ‘রোগ’ থেকে ‘ডি’ নিয়ে এর সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয়। আগে, এই রোগকে ‘২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস’ বা ‘২০১৯-এনসিওভি’ বলা হতো।

কোভিড-১৯ হলো একটি নতুন ভাইরাস যা অতীতের সার্স ভাইরাস এবং কয়েক ধরনের সাধারণ সর্দি-জ্বর জাতীয় ভাইরাসের পরিবারভুক্ত, কিন্তু সর্দি-জ্বর জাতীয় ভাইরাসের মতো সাধারণ নয়।

নভেল করোনাভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্ট এই রোগটি প্রথম চীনের উহানে চিহ্নিত হয়েছিল। ১১ই ফেব্রুয়ারী, ২০২০-এ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির নামকরণ করে করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (কোভিড-১৯) হিসেবে। করোনা থেকে ‘কো’ , ভাইরাস থেকে ‘ভি’, এবং ‘ডিজিজ’ বা ‘রোগ’ থেকে ‘ডি’ নিয়ে এর সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয়। আগে, এই রোগকে ‘২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস’ বা ‘২০১৯-এনসিওভি’ বলা হতো।

পৃথিবীতে বহু ধরনের করোনা ভাইরাস রয়েছে, এর মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতি উপরস্থ শ্বাসনালীর ব্যাধির জন্য দায়ী। কোভিড-১৯, নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি নতুন রোগ যা মানুষের মধ্যে আগে দেখা যায়নি। মানব-সংক্রামক রোগের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রচলিত নিয়মানুসারে এই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ সম্পর্কিত ভ্রান্তি ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে সামাজিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ভ্রান্তি ও বৈষম্য দূর করতে সঠিক তথ্য জানা ও শেয়ার করা জরুরী।এটি প্রচার করা জরুরী যে, ভাইরাসসমূহ শুধুমাত্র বিশেষ কিছু জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের মানুষকে সংক্রমণ করে না।

আপনার সন্তান, পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে করোনভাইরাস সম্পর্কে কি করা যাবে এবং কি করা যাবে না সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ:

যা করা যাবে: নতুন করোনভাইরাস রোগ সম্পর্কে কথা বলুন (কোভিড-১৯)

যা করা যাবেনা: রোগের সাথে এর ভৌগলিক অবস্থান বা জাতিসত্তা সংযুক্ত করা যাবে না। মনে রাখবেন, ভাইরাসটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, জাতি বা বর্ণের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে না।

যা করা যাবে: কোভিড-১৯ আছে এমন লোক সম্পর্কে, কোভিড-১৯ এর জন্য চিকিত্সা গ্রহন করছে এমন লোক সম্পর্কে, কোভিড-১৯ থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন এমন লোক সম্পর্কে বা কোভিড-১৯ সংক্রমনের পরে মারা যাওয়া লোক সম্পর্কে কথা বলা যাবে।

যা করা যাবেনা: এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ এর "শিকার" হিসাবে উল্লেখ করা যাবেনা

যা করা যাবে: কোভিড-১৯ ব্যক্তিদের সংক্রমনের বিষয়ে কথা বলুন।

যা করা যাবেনা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত লোকেরা "অন্যকে সংক্রামিত করে" বা "ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়" - এসব বলা যাবে না কারণ এটি ইচ্ছাকৃতভাবে সংক্রমণ ছড়ানো বোঝায় এবং দোষ চাপিয়ে দেয়।

যা করা যাবে: বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং সর্বশেষ অফিসিয়াল স্বাস্থ্য পরামর্শের উপর ভিত্তি করে কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিকভাবে কথা বলুন।

যা করা যাবেনা: অসমর্থিত গুজবের পুনরাবৃত্তি এবং আতঙ্ক ছড়ায় এমন ভাষা ব্যবহার করা যেমন "প্লেগ", "অ্যাপোক্যালিপস" ইত্যাদি।

যা করা যাবে: ইতিবাচকভাবে কথা বলুন এবং হাত ধোয়া সম্পর্কিত টিপস অনুসরণ করে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর জোর দিন। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি রোগ যা তারা কাটিয়ে উঠতে পারে। নিজেকে, প্রিয়জনদেরকে এবং সবচেয়ে দূর্বলকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা সকলেই নিতে পারি এমন সহজ পদক্ষেপ।

করোনা ভাইরাস নিয়ে কেউ উদ্বিগ্ন হলে তা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু ভীতি ও সামাজিক কলঙ্ক একটি খারাপ অবস্থাকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। উদাহারনস্বরূপ বলা যায়, বিশেষত এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খবর আসছে যে ভাইরাস আক্রান্তরা মানসিক, এমনকি শারীরিক ভাবেও নিগৃহীত হচ্ছে। জরুরী জনস্বাস্থ্যে অবস্থা আক্রান্ত সকলের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এর জন্য মূলত দায়ী অসচেতনতা এবং এই অবস্থা বিষয়ক জ্ঞানের অভাব।

বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকা এবং একে অপরের প্রতি সদয় এবং সহায়ক হওয়া এক্ষেত্রে জরুরী। ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, এবং বিদ্যমান স্টেরিওটাইপগুলিকে স্থায়ীত্ব দেয় এমন ভাষার ব্যবহার করা মানুষকে নিজের এবং তাদের সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিরত করতে পারে।

করোনা ভাইরাসের উৎস কী?

করোনা ভাইরাসের একটি বড় পরিবার রয়েছে । কিছু মানুষের মাঝে রোগ সৃষ্টি করে, বাকিরা পশু-পাখি যেমন বিড়াল ও কুকুরের রোগের জন্য দায়ী। পশু-পাখির মাঝে করোনা ভাইরাস ধরা পড়লে আক্রান্ত প্রাণী থেকে মানুষের মাঝে ভাইরাস ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাসের সেই ধরনকে কোভিড-১৯ (COVID-19) বলা হয়। মার্স (MERS) এবং সার্স (SARS) করোনা ভাইরাসের দুইটি ধরণ যারা পশুপাখি থেকে মানুষের দেহে এর আগে ছড়িয়েছে।

এই ভাইরাস প্রথম সনাক্ত করা হয় চায়নার হুবেই প্রভিন্স এর ইউহান সিটি তে। প্রথমদিকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুধুমাত্র জীবন্ত প্রাণী বেচা-কেনার বাজারে ছিল। কিন্তু এখন এই ভাইরাসটি একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের কাছে ছড়াচ্ছে। মনে রাখা প্রয়োজন এই ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে আরো দ্রুত ছড়ায়। যে ভাইরাসটি করোনার জন্য দায়ী তা খুব সহজেই এবং দৃঢ়ভাবে আক্রান্ত অঞ্চলে একজন থেকে আরেকজনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চলের মাঝে বসবাসরত একজন মানুষের থেকে আরেকজন মানুষের মাঝে খুবই সহজে ছড়িয়ে পড়ে।

যে ভাইরাসটি করোনার জন্য দায়ী তা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত একজন মানুষ সক্রিয়ভাবে এই রোগ অন্যের মাঝে ছড়ায়। এজন্য বিশেষজ্ঞরা নির্দেশ দিয়ে থাকেন অসুস্থ রোগীকে সুস্থ মানুষের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে যেন হাসপাতাল অথবা বাড়িতে রাখা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সুস্থ হয় এবং অন্যের মাঝে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কামুক্ত না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে একজন রোগীকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় যখন:

  • ১. রোগীর শরীরের জ্বর ভালো হয়ে যায় কোন রকম ওষুধ ছাড়াই।
  • ২. রোগীর মাঝে কোন ভাইরাসের কোনো লক্ষণ কিংবা কাশি দেখা যায় না
  • ৩. ২৪ ঘন্টার মধ্যে পর পর করোনাভাইরাসের দুটি পরীক্ষায় রোগী উত্তীর্ণ হলে।

গরম আবহাওয়া করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধ করে কী না তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। কিছু ভাইরাস যেমন সর্দি কাশি কিংবা ফ্লু শীতকালে দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু এর মানে এই না যে এই ভাইরাস অন্য সময় ছড়ায় না। এখন পর্যন্ত জানা যায়নি গরমকালে করোনাভাইরাস কম ছড়ায় কী না। এই ভাইরাস এর সংক্রমণের হার এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

ধারণা করা হয় করোনা ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের মাঝে ছড়ায় রেসপিরেটরি ড্রপলেট বা আমাদের মুখ ও নাক থেকে নির্গত তরল পদার্থের দ্বারা। এখন পর্যন্ত খাবারের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে এমন প্রমাণ মিলেনি। তবে খাবার গ্রহণ কিংবা তৈরি করার পূর্বে অবশ্যই 20 সেকেন্ড ধরে পানি এবং সাবান দ্বারা ভালোমতো হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ দিনের বেলা চলাফেরার কারণে আপনার হাতে এই ভাইরাস লেগে যেতে পারে। এরপর যদি আপনি সেই হাত দিয়ে নাক কিংবা মুখ স্পর্শ করেন তাহলে করোনাভাইরাস আপনার শরীরের ভিতরে প্রবেশ করবে। তাই হাঁচি-কাশির পরে এবং বাথরুম ব্যবহার করার পরে অবশ্যই ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। যেহেতু করোনাভাইরাস কোন সমতলে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না সেই কারণে খাবারের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

একটি নির্দিষ্ট এলাকায় যখন কোন আক্রান্ত ব্যক্তি প্রবেশ করে তখন ওই এলাকায় আশেপাশের মানুষের মাঝে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং সবাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে থাকে, এটিকে কমিউনিটি স্প্রেড বলে।

নিজেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখবো এবং রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে আমার করণীয় কি?
সকলের জন্য সুরক্ষার উপায়

কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর ওয়েবসাইট ও আপনার স্থানীয় এবং জাতীয় সাস্থ্য সংস্থা থেকে সংগ্রহ করে নিজেকে সচেতন রাখবো। বিশ্বের অনেক দেশই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং একে মহামারি রূপ ধারণ করতে দেখেছে। চীন ও অন্যান্য কিছু দেশ এর সরকার এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ এবং থামাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত, তাই নিয়মিত খবরাখবর রাখতে হবে।

আপনি কিছু সহজ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়া এবং তা ছড়ানোর সম্ভাবনা কমাতে পারেন।

  • অ্যালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে আপনার হাত নিয়মিত এবং ভালোভাবে পরিষ্কার করুন বা সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
    কেন? এতে আপনার হাতে থাকা সম্ভাব্য ভাইরাসগুলো মরে যায়।
  • হাঁচি কাশি আছে এমন ব্যক্তি হতে নিজেকে কমপক্ষে ১মিটার (৩ ফুট) দূরত্বে রাখবো।
    কেন? যখন কেউ হাঁচি বা কাশি দেয়, তা স্প্রে আকারে বের হয়। বেশি কাছাকাছি থাকলে নিঃশ্বাসের সাথে আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তার শরীরে করোনার জীবাণু থাকলে তা আপনার শরীরে তখন প্রবেশ করে।
  • চোখ , নাক এবং মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
    কেন? হাত বিভিন্ন জিনিসের সংস্পর্শে আসে। আপনার হাতে যদি জীবাণু কোনভাবে এসে থাকে স্পর্শ করার মাধ্যমে তা আপনার চোখ, নাক ও মুখে আসতে পারে। পরবর্তীতে যা আপনার শরীরে সেসব স্থান দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
  • আপনি এবং আপনার আশেপাশের মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলুন। অর্থাৎ ,হাঁচি / কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু দিয়ে আপনার নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন (ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন)। টিস্যু না থাকলে আপনার কনুই এর বিপরীত পাশ দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকুন।
    কেন? এতে আপনার শরীরে যদি ভাইরাস থেকে থাকে তা আপনার আশেপাশের মানুষের মধ্যে ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়।
  • অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন। যদি আপনার সর্দি কাশি, জ্বর এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট থাকে তাহলে জরুরী ভিত্তিতে সাস্থ্যসেবা গ্রহণ করুন এবং আগে থেকে তা জানিয়ে যাবেন। আপনার এলাকার সাস্থ্য কর্মীর নির্দেশ মেনে চলুন।
    কেন? আপনার স্থানীয় ও জাতীয় সাস্থ্য কর্মীদের কাছে করোনা পরিস্থিতির সর্বশেষ খবরাখবর থাকবে । তারা আপনাকে সঠিক প্রতিষ্ঠানের দিকে দ্রুততার সাথে প্রেরণ করতে পারবে। এতে আপনি এবং আপনার আশেপাশের সবাই রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।
  • নিজেকে করোনা ভাইরাস কোন কোন শহর বা এলাকায় দ্রুত ছড়াচ্ছে সে সম্পর্কে অবহিত রাখবেন। সম্ভব হলে এ সকল এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকুন- বিশেষত আপনি যদি বয়স্ক হয়ে থাকেন বা আপনার ডায়েবেটিস , হৃদরোগ বা ফুসফুসের রোগ থেকে থাকে।
    কেন? এসকল এলাকায় আপনার করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অধিক।

পরিবারের সদস্য, শারীরিক সম্পর্কের সঙ্গী বা সেবা প্রদানকারী, কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসতে পারে। রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের উচিত নিজেদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা; কোভিড -১৯ এর লক্ষণগুলি (যেমন: জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট) বেড়ে গেলে তাৎক্ষনিকভাবে ডাক্তারকে জানানো উচিৎ।

রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের এই ধাপগুলো অনুসরণ করা উচিত:

  • নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি রোগীকে তার ডাক্তারের নির্দেশাবলী বুঝে ওষুধ নিতে ও নিজের যত্ন নিতে সহায়তা করতে পারবেন। আপনার রোগীকে প্রাথমিক চাহিদাসহ বাজার, প্রেসক্রিপশন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সহায়তা করা উচিত।
  • রোগীর লক্ষণগুলি পর্যবেক্ষণ করুন। যদি রোগী আর বেশি অসুস্থ হতে থাকে তবে তার ডাক্তারকে কল করুন এবং তাদের জানান যে রোগীর পরীক্ষাগার-নিশ্চিত কোভিড-১৯ রয়েছে। এটি ডাক্তারকে তার হাসপাতাল বা ক্লিনিকে উপস্থিত অন্য ব্যক্তির মাঝে সংক্রমণ রোধ করার পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।
  • বাড়ির সদস্যদের অন্য ঘরে বা যথাসম্ভব রোগীর থেকে দূরে থাকা উচিত। যদি সম্ভব হয়, তবে বাড়ির সদস্যদের আলাদা বেডরুম এবং বাথরুম ব্যবহার করা উচিত।
  • যাদের বাড়িতে আসার জরুরী প্রয়োজন নেই তাদের আসতে মানা করুন।
  • বাড়ির অন্য সদস্যদের পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়া উচিত। অসুস্থ অবস্থায় পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে যাবেন না।
  • নিশ্চিত করুন যে বাড়ির খোলা জায়গাগুলিতে ভাল বায়ু প্রবাহ রয়েছে।
  • ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করুন। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য নিয়মিত আপনার হাত সাবান এবং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন যার মধ্যে ৬০ থেকে ৯৫% অ্যালকোহল থাকে। যদি হাত দৃশ্যমান ময়লা থাকে তবে সাবান এবং পানি ব্যবহার করা উচিত।
  • হাত না ধুয়ে আপনার চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন।
  • রোগী যখন অন্য লোকের আশেপাশে থাকেন তখন রোগীর ফেসমাস্ক পরা উচিত। যদি রোগীর জন্য ফেসমাস্কটি পরা সম্ভব না হয় (যেমন, কারণ এটি শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টি করে), এবং আপনি রোগীর সাথে একই ঘরে থাকবেন তখন আপনার মাস্ক পরা উচিত।
  • যখন আপনি রোগীর রক্ত, মল, বা শরীরের তরল নিষ্কৃত যেমন লালা, গন্ধ, নাকের শ্লেষ্মা, বমি, প্রস্রাবের সংস্পর্শে আসেন, তখন অবশ্যই ফেসমাস্ক এবং গ্লাভস পড়ুন এবং ব্যবহার শেষে যথাযথ স্থানে ফেলে দিন।
    • এগুলি ব্যবহারের পরে ফেলে দিন। পুনরায় ব্যবহার করবেন না।
    • ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামগুলি সরানোর সময়, প্রথমে গ্লাভসগুলি সরিয়ে ফেলুন। আপনার হাত তাৎক্ষনিকভাবে সাবান এবং পানি বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। এরপরে, ফেসমাস্কটি সরিয়ে ফেলুন এবং অবিলম্বে আপনার হাত সাবান এবং পানি বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে আবার পরিষ্কার করুন।
  • রোগীর সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। আপনার বাসন, গ্লাস, কাপ, খাবারের পাত্র, তোয়ালে, বিছানাপত্র বা অন্যান্য জিনিস রোগীর সংস্পর্শে আনা উচিত নয়। রোগীর ব্যবহার্য জিনিস ব্যবহার করার পরে, এগুলি ভালভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
  • কাউন্টার, টেবিল, দরজার হাতল, বাথরুমের জিনিস, টয়লেট, ফোন, কীবোর্ড, ট্যাবলেট কম্পিউটার এবং বিছানার পাশের টেবিলগুলির মতো সমস্ত "হাই-টাচ" পৃষ্ঠতল পরিষ্কার করুন। এছাড়াও, যে কোন কিছু যাতে রক্ত, মল বা শরীর-নিঃসৃত তরল থাকতে পারে সেগুলি পরিষ্কার করুন।
    • লেবেল নির্দেশাবলী অনুসারে স্প্রে ব্যবহার করুন। লেবেলে পরিষ্কারক দ্রব্যটি নিরাপদ এবং কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য নির্দেশাবলী রয়েছে। দ্রব্যটি প্রয়োগ করার সময় আপনার অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যেমন গ্লোভস পরা এবং দ্রব্যটি ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা।
  • কাপড় ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।
    • রক্ত, মল বা শরীর-নিঃসৃত তরল থাকে এমন কাপড় বা বিছানা তাৎক্ষনিকভাবে মুছে ফেলুন।
    • ময়লা ধরার সময় ডিসপোজেবল গ্লাভস পড়ুন এবং ময়লা জিনিসগুলি আপনার শরীর থেকে দূরে রাখুন। আপনার গ্লাভস অপসারণ করার সাথে সাথে আপনার হাত (সাবান এবং পানি বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার) দিয়ে পরিষ্কার করুন।
  • সমস্ত ব্যবহৃত ডিসপোজেবল গ্লাভস, ফেসমাস্ক এবং অন্যান্য দূষিত জিনিসগুলি অন্য গৃহস্থালি বর্জ্যগুলির সাথে নিষ্পত্তি করার আগে একটি পলিথিন দিয়ে মোড়ানো পাত্রে রাখুন। এই জিনিসগুলি ব্যবহার করার সাথে সাথে আপনার হাত (সাবান এবং পানি বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার) দিয়ে পরিষ্কার করুন। যদি হাতে দৃশ্যমান ময়লা থাকে তবে সাবান এবং পানি ব্যবহার করা উচিত।

বয়স্ক ব্যক্তিদের এবং যে কোন বয়সের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে কোভিড-১৯ এর কারণে গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিতে আছেঃ

  • বেশি বয়স্ক ব্যক্তি
  • যেসকল ব্যক্তির নিম্নোক্ত শারীরিক সমস্যা রয়েছেঃ
    • হৃদরোগ
    • ডায়াবেটিস
    • ফুসফুসের রোগ

আপনার যদি করোনা ভাইরাস তথা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধিক থাকে, আপনার উচিতঃ

প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অধিক পরিমাণে জমা করা, মানুষের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ দূরত্ব বজায় রাখা, জমায়েত এড়িয়ে চলা, সর্বোপরি ঘুরতে যাওয়া থেকে বিরত থাকা। আপনার এলাকায় যদি এ রোগ ছড়িয়ে পরে থাকে, যথাসম্ভব ঘরে থাকার চেষ্টা করবেন। নিজের লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি অসুস্থ হয়ে যান, ডাক্তারকে ফোন দিবেন এবং বাসায় থাকবেন।

আপনার মাস্ক পরিধান করা উচিৎ যদি আপনার মধ্যে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ (বিশেষত কাশি) ধরা পড়ে থাকে অথবা আপনি আক্রান্ত কারো সেবায় নিয়োজিত থাকেন। ডিসপোজেবল মাস্ক একবারই ব্যবহার করা উচিৎ। যদি আপনি নিজে অসুস্থ না থাকেন এবং অসুস্থ কারো সেবায় নিয়োজিত না থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন মানুষকে মাস্কের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করছে কারণ সারা বিশ্বে এর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম।

নিজেকে এবং আশেপাশের সকলকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে নিয়মিত এবং ঘনঘন হাত পরিষ্কার করা, হাঁচি/কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু অথবা আপনার কনুই-এর বিপরীত পাশ দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকা এবং হাঁচি কাশি আছে এমন ব্যক্তি হতে নিজেকে কমপক্ষে ১ মিটার (৩ ফুট) দূরত্বে রাখা।

কোভিড-১৯-এর লক্ষণসমূহ কি?

করোনভাইরাসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। আরও মারাত্মক ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণের ফলে নিউমোনিয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা হতে পারে। কিছু রোগীর গায়ে ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, সর্দি বা ডায়ারিয়া দেখা দিতে পারে। তবে, খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ প্রাণঘাতী হয়; কোনরকম চিকিৎসা ছাড়াই আক্রান্তদের ৮০%-এর মতো সেরে উঠে। প্রতি ৬ জনের ১ জন মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতে পারে ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারে। বয়োবৃদ্ধ ও উচ্চ রক্তচাপ/ হৃদরোগ/ ডায়াবেটিসের রোগীদের মধ্যে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

এসব লক্ষণগুলো ফ্লু (ইনফ্লুয়েঞ্জা) বা সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর, যা কোভিড-১৯ এর চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ। এ কারণেই কোনও ব্যক্তি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখে নেয়া দরকার। এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, মূল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো একই রকম। এর মধ্যে রয়েছে বার বার হাত ধোয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। যেমন, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় কনুই দিয়ে ঢেকে নেয়া বা টিস্যু ব্যবহার করা, তারপর টিস্যুটি নিকটবর্তী বন্ধ ময়লার বাক্সে ফেলে দেয়া। এছাড়াও, জ্বরের জন্য একটি টিকা রয়েছে। তাই, নিজেকে এবং নিজের সন্তানকে সময়মতো ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা মনে রাখবেন। জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সবার জন্য পরীক্ষা করানোর দরকার নেই। কোভিড-১৯-এর পরীক্ষা করানোর বিস্তারিত এখানে জানুন।

কোভিড-১৯-এর জন্য পরীক্ষা পদ্ধতি ও স্থান ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন। আপনি আপনার অবস্থানভেদে বিস্তারিত জানার জন্য এখানে দেখুন

আমার লোকালয়ে মহামারী দেখা দিলে আমি কী করব?

Dমহামারীর সময় শান্ত থাকুন এবং আপনার প্রস্তুতির পরিকল্পনাটিকে কাজে লাগান। নিচের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন:

নিজেকে এবং অন্যদের রক্ষা করুন।.

  • আপনি অসুস্থ হলে বাড়িতেই থাকুন। যারা অসুস্থ তাদের থেকে দূরে থাকুন। অন্যদের সাথে দূরত্ব যতটা সম্ভব বজায় রাখুন (প্রায় ৬ ফুট)

আপনার পরিবারের পরিকল্পনা কার্যকর করুন।

  • স্থানীয় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত থাকুন। আপনার অঞ্চলে অস্থায়ী স্কুল ছুটি সম্পর্কে সচেতন হন, কারণ এটি আপনার পরিবারের প্রতিদিনের রুটিনকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • প্রতিদিনের প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। কাশি এবং হাঁচি দেওয়ার সময় টিস্যু দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন এবং কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য আপনার হাত সাবান এবং পানি দিয়ে কিছুক্ষণ পরপর ধুয়ে নিন। যদি সাবান এবং পানি না পাওয়া যায় তবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন যেটিতে ৬০% অ্যালকোহল থাকে। নিয়মিত ডিটারজেন্ট এবং পানি দিয়ে প্রায়শই স্পর্শ করা বিভিন্ন বস্তুর উপরিভাগ এবং জিনিসগুলি পরিষ্কার করুন।
  • আপনার দৈনিক কাজের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার কর্মক্ষেত্রকে অবহিত করুন। আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দ্বারা অসুস্থ হয়ে পড়লে বা আপনার সন্তানের স্কুল অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে থাকলে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি চান বা ছুটি নিন।
  • ফোন বা ইমেলের মাধ্যমে অন্যদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। আপনার যদি দীর্ঘদিন ধরে কোন রোগের চিকিৎসা চলে থাকে এবং আপনি একা বসবাস করে থাকেন তবে পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রাদুর্ভাবের সময় আপনার খোঁজ রাখতে বলে রাখুন। পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, বিশেষত যারা গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেমন বয়স্ক ব্যক্তিবর্গ এবং গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় আছেন এমন ব্যক্তিদের।

এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস (কোভিড-৯) নিয়ে যে সব বিষয় শুনছেন তাতে বিচলিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনার সন্তানের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে বলে সহজেই ধরে নেওয়া যায়। তারা অনলাইন ও টিভিতে যা দেখছে বা অন্যদের কাছ থেকে এই ভাইরাস সম্পর্কে যা শুনছে, তা বোঝা শিশুদের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই তাদের মধ্যে উদ্বেগ, চাপ ও দুঃখবোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আপনি সন্তানের সঙ্গে খোলাখুলিভাবে ও তাকে সহায়তার মনোভাব নিয়ে আলোচনা করলে তা তাদের বিষয়গুলো বুঝতে, কঠিন এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং এমনকি অন্যদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।

  • খোলা মনে প্রশ্ন করুন ও শুনুন

    বিষয়টি নিয়ে সন্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করুন। বোঝার চেষ্টা করুন তারা বিষয়টি নিয়ে কতদূর জেনেছে এবং কি কি বিধিনিষেধ অনুসরণ করছে। খুব ছোট হলে এবং এখনও রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে না জেনে থাকলে তাদের কাছে বিষয়টি তোলার দরকার নেই- তার মধ্যে ভয় না ছড়িয়ে শুধু যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার স্বাস্থ্যবিধিগুলো তাদের মনে করিয়ে দিন।

    নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন এবং আপনার সন্তান যেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে সেই সুযোগ তৈরি করে দিন। ছবি আঁকা, গল্প বলা বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনাটা শুরু করা যায়।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে কখনোই খাটো করে না দেখা বা এড়িয়ে যাওয়া। তাদের অনুভূতি-উপলব্ধিকে মেনে নিন এবং তাদেরকে বুঝান যে, এসব বিষয়ে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনার আচরণে এটা প্রকাশ করতে হবে যে, পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে আপনি তার কথা শুনছেন এবং চাইলেই যেন আপনার ও তাঁর শিক্ষকদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারে সেই আত্মবিশ্বাস তাদের দিতে হবে।

  • সৎ হতে হবে: শিশুবান্ধব পদ্ধতিতে সত্যটা তুলে ধরুন

    বিশ্বজুড়ে যা চলছে সে বিষয়ে জানার অধিকার শিশুদেরও রয়েছে। তবে বড়দেরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের মানসিক যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখা। তাদের বয়স অনুযায়ী কথা বলুন, তারা কি প্রতিক্রিয়া দেখায় তা খেয়াল করুন, তাদের উদ্বেগের মাত্রা অনুধাবনের চেষ্টা করুন ও তাদের প্রতি সংবেদনশীল হন।

    তাদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে না পারলে কোন কিছু বানিয়ে বলবেন না। এটাকে ধরে নিন সবগুলো প্রশ্নের একসঙ্গে উত্তর দেওয়ার সুযোগ হিসেবে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট এসম্পর্কিত তথ্যের বড় উৎস। তাদের বুঝিয়ে বলুন যে, অনলাইনে যত তথ্য পাওয়া যায় তার সবটাই সঠিক নয়। তাই এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

  • ছেলে-মেয়েরা নিজেদের ও তাদের বন্ধুদের কীভাবে রক্ষা করতে পারে, তা দেখিয়ে দিন

    ছেলে-মেয়েদের করোনাভাইরাস ও অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর একটি হচ্ছে নিয়মিত সঠিকভাবে হাত ধোয়া। এর জন্য তাদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে পারে এমন আলোচনার অবতারণা করার কোন দরকার নেই। শিশুর কাছে এ বিষয়ক শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে গান বা নাচের মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

    হাঁচি-কাশির সময় কিভাবে হাত ভাজ করে কনুই দিয়ে নাক-মুখ ঢাকতে হয় তা আপনি ছেলে-মেয়েদের দেখাতে পারেন। তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে যে, যাদের এসব উপসর্গ আছে তাদের কাছে না যাওয়া এবং জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট বোধ করলে যেন তারা যেন সেটা সঙ্গে সঙ্গে জানায়।

  • মানসিকভাবে চাঙা রাখতে তাদের প্রতিনিয়ত আশ্বাস দিতে হবে

    যখন আমরা টেলিভিশন বা অনলাইনে প্রচুর মন খারাপ করা ছবি দেখি তখন মনে হতে পারে যেন সংকট আমাদের চারপাশেই। শিশুরা স্ক্রিনের ছবি এবং নিজেদের বাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলতে পারে এবং ভাবতে পারে তারা আসন্ন বিপদের মুখে। এসব ক্ষেত্রে সম্ভব হলে খেলাধুলা ও মনোবল চাঙা করার অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করে আপনি আপনার শিশুকে মানসিক চাপ মুক্ত রাখতে পারেন। যতটা সম্ভব তার জন্য সময় দিন, বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, আবার একটা নতুন পরিবেশে নতুন কিছু করতে গেলে তাকে সহযোগিতাও করতে হবে।

    আপনার সন্তান অসুস্থ বোধ করলে বোঝাতে হবে যে, তার/তাদের ঘরে থাকা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিজের ও তাদের বন্ধুদের জন্য বেশি নিরাপদ। তাদের বোঝাতে হবে যে, এই সময়টা কঠিন (ভীতিকর, এমকি বিরক্তিকরও) হবে, কিন্তু এই নিয়মগুলো মেনে চললে সবাই নিরাপদ থাকবে।

  • খতিয়ে দেখতে হবে তারা স্টিগমার শিকার হয়েছে বা ছড়াচ্ছে কি না

    করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ণ বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে বলে অনেক খবর প্রকাশ হয়েছে। তাই আপনার সন্তানও এ ধরনের বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে কি না বা তা ছড়াতে ভূমিকা রাখছে কি না তা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

    তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে যে, কোনো মানুষ দেখতে কেমন, ষে কোথা থেকে এসেছে বা কোন ভাষায় কথা বলে, তার সাথে করোনাভাইরাসের কোন সম্পর্ক নেই। যদি তারা এ ধরনের আচরণের শিকার হয় তাহলে যেন সংকোচ না করে তাদের আস্থাভাজন বড় কাউকে বিষয়টি সম্পর্কে জানায়।

    আপনার সন্তানকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে, স্কুলে নিরাপত্তা ও বন্ধুসুলভ আচরণ সবারই প্রাপ্য। কাউকে হেনস্তা করা কখনোই ঠিক নয়। বরং একে অপরের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বাড়াতে আমাদের সবারই দায়িত্ব রয়েছে।

  • বিপদে এগিয়ে আসা লোকজনের দিকে নজর

    এটা শিশুদের জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই সংকটকালে অনেক মানুষ সহমর্মিতা ও উদারতার হাত নিয়ে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সহায়তা করছে।

    রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ও কমিনিউটিকে নিরাপদ রাখতে স্বাস্থ্যকর্মী, বিজ্ঞানী ও তরুণসহ অন্যরা যারা কাজ করছে, সে বিষয়ে তাদের সাথে গল্প করুন। সহৃদয় লোকজন যে তাদের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত আছে সেটা জানতে পারলে তারা অনেকখানি স্বস্তি ও সাহস পাবে।

  • নিজের যত্ন নেওয়া

    এই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারলেই আপনি সন্তানদের সহায়তা করতে পারবেন। এসব খবরে আপনার কি প্রতিক্রয়া ঘটে, তার থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করবে আপনার সন্তান। তাই এই পরিস্থিতিতে আপনি সুস্থ ও শান্ত আছেন দেখলে তারাও স্বস্তি অনুভব করবে।

    আপনি উদ্বিগ্ন ও হতাশ বোধ করলে নিজের জন্য সময় দিতে হবে এবং সমাজে আপনার আস্থাভাজন লোকজন, বন্ধু ও অন্যান্য পরিবারের কাছে গিয়ে কথা বলতে হবে। আপনি নিজে যাতে চাঙা ও উজ্জীবিত থাকেন সেজন্য কিছু সময় ব্যয় করতে হবে।

  • সতর্কতার সঙ্গে আলোচনায় সমাপ্তি টানা

    এটা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমাদের সন্তানদেরকে আমরা মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রাখছি না। আলোচনা শেষ করার সময় তাদের শরীরী ভাষা দেখে, স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে কিনা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক আছে কিনা তা দেখে তাদের উদ্বেগের মাত্রাটা বোঝার চেষ্টা করুন।

    সন্তানদেরকে মনে করিয়ে দিন, যে কোনো সময় আপনার সঙ্গে তাদের আরও গুরুতর কোন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তাদেরকে বুঝিয়ে দিন, আপনি তাদের প্রতি যত্নশীল, তাদের কথা শুনছেন এবং তারা যখনই উদ্বিগ্ন হবে তখনই আপনার সাথে তা নিয়ে বিনা সংকোচে কথা বলতে পারবে।

  • শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করুন। শিশুরা বাইরে খেলতে যেতে চাইতে পারে, সেক্ষেত্রে তাদের বুঝিয়ে বলুন। স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুদের পড়াশুনার জন্য বিকল্পভাবে চিন্তা করুন, দরকার হলে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে নিন।

    যদি আপনার শিশুর কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা দেয় তখন আপনি অবশ্যই চিকিৎসা সেবা নিবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, উত্তর গোলার্ধ্বে এখন জ্বরের মৌসুম, এবং কোভিড-১৯ এর লক্ষণ যেমন, কাশি বা জ্বর, ফ্লু’র মত একই রকমের হতে পারে বা সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের বিষয়টিও খুবই স্বাভাবিক।

    ভালভাবে হাত ধোয়া এবং শ্বাসতন্ত্রজনিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার। যেসব ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টি করে, দৈনন্দিন হাত ধোয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সন্তানকে ভ্যাকসিন দেওয়ার মাধ্যমে সেগুলো থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে পারবেন।

    আপনার বা আপনার সন্তানের যদি ফ্লু’র মতো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত অন্যান্য সংক্রমন থাকে, তবে দ্রুত স্বাস্থ্য সেবা নিন। এছাড়াও, অন্যদের মধ্যে এই সংক্রমন ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য জনসমাগমস্থলে (কম©ক্ষেত্র, বিদ্যালয়, গণপরিবহন) যাওয়া যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

    অবস্থাভেদে জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিতে পারে। এধরনের তথ্যের জন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বা স্কুল থেকে ঘোষণার দিকে নজর রাখুন।

    স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে, শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করুন। শিশুরা বাইরে খেলতে যেতে চাইতে পারে, সেক্ষেত্রে তাদের বুঝিয়ে বলুন। স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুদের পড়াশুনার জন্য বিকল্পভাবে চিন্তা করুন, দরকার হলে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে নিন।

    এক্ষেত্রে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন। চেষ্টা করুন বাসায় থাকতে এবং বাসা থেকে কাজ করার ব্যাপারে আপনার কর্মক্ষেত্রে আলোচনা করুন। আপনার বাসায় কেউ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে বা শিশুদের স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিন।

    অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যদের দেখভাল করার জন্য যে কার বাসায় থাকার প্রয়োজন হতে পারে এবং এই পরিস্থিতিতে এটাই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে কর্মক্ষেত্রের কর্তৃপক্ষদের সচেতন থাকা উচিত।

    রসুন খাওয়া কি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করবে?

    নভেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে রসুন কার্যকর এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রসুন একটি উপকারী খাবার যার কিছু জীবাণুনাশক গুনাগুণ থাকতে পারে।

    হ্যাঁ, চীন থেকে আসা কোন চিঠি বা পার্সেল যদি কেউ গ্রহণ করে তবে তিনি কোনভাবেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিতে পরবেন না।

    ইতিমধ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানি যে এ ভাইরাস মানবদেহের বাহিরে বেশিক্ষণ বাঁচতে পারে না।

    ঘরের পোষা প্রাণী (যেমন কুকুর বিড়াল ইত্যাদি) নভেল করোনা ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয় এমন কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর সবসময় সাবান পানি দিয়ে হাত ধোওয়া উত্তম। এই অভ্যাসের কারণে পোষা প্রাণী থেকে মানবদেহে রোগ ছড়ায় এমন ব্যাকটেরিয়া যেমন- ই-কোলাই, সালমোনেলা ইত্যাদি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

    মশার কামড়ে কোভিড-১৯ ছড়ায় এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    নভেল করোনা ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের রোগ । আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। নিজের সুরক্ষায় বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন, সর্দি কাশির সময় টিস্যু পেপার দিয়ে অথবা কনুই ভাঁজ করে নাক মুখ ঢেকে ফেলুন এবং হাঁচি কাশি আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

    হ্যাঁ। কোভিড-১৯ শুষ্ক ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার দেশের পাশাপাশি উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশেও বিস্তার লাভ করেছে।

    যেখানেই থাকুন বা যে আবহাওয়ায়ই থাকুন সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন, সর্দি কাশির সময় টিস্যু পেপার দিয়ে অথবা কনুই ভাঁজ করে নাক মুখ ঢেকে ফেলুন এবং ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত বিনে ফেলুন

    না হ্যান্ড ড্রায়ার নভেল করোনা ভাইরাস ধ্বংসে কার্যকরী না।

    নিজের সুরক্ষার জন্য বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। হাত পরিষ্কারের পর টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলুন

    হাত বা শরীরের অন্য কোন অংশ জীবাণুমুক্ত করার জন্য আলট্রা ভায়োলেট ল্যাম্প ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এর ফলে ত্বকে সমস্যা হতে পারে।

    ধূমপানে কোভিড-১৯ সংক্রমণে কোনো সুরক্ষা দেয় না।

    ধূমপান শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপানের ফলে যাদের আগে থেকে কোন অসুস্থতা আছে যেমন হৃদ রোগ , এমন ব্যক্তির কোভিড-১৯ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

    বর্তমানে প্রমাণ সাপেক্ষে দেখা গেছে যে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে অথবা তার হাঁচি কাশির মাধ্যমে কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    এই হাঁচি কাশির মাধ্যমে ভাইরাস এক মিটারের বেশি যেতে পারে না, বাতাসেও ভাসতে পারে না, কিন্তু যে কোন কিছুর উপরিভাগে অবস্থান নিতে পারে। এই জন্য হাত পরিষ্কার করা এবং হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ ঢাকা অত্যন্ত জরুরী।

    না। বাজীর ধোয়া বা গ্যাস কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা দেয় না বরং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

    বাজীর ধোয়া বা গ্যাসে সালফার ডাই অক্সাইড আছে যা বিষাক্ত। এটা চোখে, নাকে, গলায় এবং ফুসফুসে জ্বালা ধরায়। এতে পুরে যাবার সম্ভাবনা থাকে

    না, অ্যালকোহল (মদ) পান করলে কি কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় না।

    না, করোনা ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে অ্যালকোহল বা ক্লোরিন ছিটিয়ে কি নতুন করোনা ভাইরাস মেরে ফেলা সম্ভব না।

    এই সকল পদার্থ ব্যবহার চোখ মুখ এর জন্য ক্ষতিকর । যথোপযুক্ত দিক নির্দেশনা ছাড়া এসব পদার্থ ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

    ভালোভাবে হাত ধুলে টাকা পয়সার মাধ্যমে নভেল করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কম।

    নিজের সুরক্ষার জন্য বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। তবে করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র দূষিত হতে পারে। সমীক্ষনে দেখা গেছে করোনা ভাইরাস যে কোন জিনিসের উপর কয়েক ঘন্টা জীবিত থাকতে পারে

    যে কোন বয়সের ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

    বয়স্ক এবং যাদের আগে থেকে অসুস্থতা আছে (যেমন এজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ) এমন ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থ হবার সম্ভাবনা বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব বয়সী মানুষকে এ রোগ থেকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    না, এন্টিবায়োটিক ভাইরাস নয় ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী।

    নভেল করোনাভাইরাস এক ধরনের ভাইরাস বিধায় এর চিকিৎসায় বা এর প্রতিরোধে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিৎ নয়। তবে কেউ যদি করোনা ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন , তিনি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সহ-সংক্রমণের জন্য এন্টিবায়োটিক পেতে পারেন।

    না এখন পর্যন্ত নভেল করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে বা চিকিৎসায় কোন কার্যকরী ঔষুধ নেই।

    কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ উপশমের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা এবং গুরুতর অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত সাস্থ্যসেবা দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা পরীক্ষাধীন, যা ক্লিনিকাল ট্রায়ালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ এই সংক্রান্ত গবেষণা তরান্বিত করার জন্য সহযোগিতা করছে।

    না, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিউমোনিয়া ভ্যাকসিনের কোন ভূমিকা নেই।

    করোনা ভাইরাস সম্পূর্ণ নতুন হওয়ার জন্য এর জন্য আলাদা ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় গবেষকরা এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ করে যাচ্ছে।

    না, স্যালাইন দিয়ে নিয়মিত নাক পরিষ্কার করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব - এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    দেখা গেছে, স্যালাইন দিয়ে নিয়মিত নাক পরিষ্কার করলে সাধারণ ঠাণ্ডা থেকে দ্রুত উপশম হয়। কিন্তু এর ফলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধ হয় এমন তা জানা যায় নি

    পর্যাপ্ত পানি পান করা শরীরের জন্য উপকারী কিন্তু তা করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় না।

    যদি জ্বর , সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে হবে এবং স্বাস্থ্য কর্মীকে পূর্ববর্তী ভ্রমণের ইতিহাস জানাতে হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাবার আগেই জানিয়ে যেতে হবে।

    যদি কোন কিছুর উপরিভাগ ময়লা থাকে তবে সাধারণ সাবান ও পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করা যাবে। এর উপাদান সমূহ (সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড) ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও ভাইরাস দমনে সাহায্য করে।

    সাবান বা ক্ষার ব্যবহারের সময় নিজের হাত সুরক্ষিত রাখতে হবে। প্যাকেটের গায়ে নির্দেশনা মেনে তা ব্যবহার করতে হবে।

    সাধারণ সাবান দিয়ে হাত ধুলেও কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা সম্ভব। মনে রাখতে হবে আঙ্গুলের ভাজে, সামনে ও নখের চারপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরী

    অপরিষ্কার কাপড় পরিধান করা উচিৎ না। গরম পানি, সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে তা পরিধান করা উচিৎ ।

    সম্ভব হলে প্যাকেটের গায়ের নির্দেশিকামত ক্ষার ব্যবহার করা উচিৎ। সূর্যের তাপে/ মেশিন দিয়ে শুকিয়ে পরিধান করা উচিৎ।

    আমাদের সম্পর্কে জানুন

    প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ওয়ানস্টপ তথ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রবাসী হেল্পলাইন। প্রবাসীদের যেকোন সমস্যার সঠিক সমাধানের ভেরিফায়েড তথ্য এখন একটি ঠিকানায়। প্রবাসী হেল্পলাইন নিয়মিত ও অনিয়মিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের থাকা, খাওয়া, চাকরি, ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোন সমস্যা সমাধানে তথ্যসেবা দেয়ার পাশাপাশি সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় সেই সমস্যাগুলি সমাধানে কাজ করে থাকে। বর্তমানে প্রবাসী হেল্পলাইন টেলিফোনে ও অনলাইনে প্রবাসীদের বিনামূল্যে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্যসেবা এবং টেলিমেডিসিন ও মানসিক সাপোর্ট দিচ্ছে।

    প্রবাসী হেল্পলাইনের তরুণ তিন উদ্যোক্তা হলেন- জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মুঈদ, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ রিদওয়ান হাফিজ, ও কাজল আব্দুল্লাহ। প্রবাসী হেল্পলাইনকে কারিগরী সহযোগিতা দিচ্ছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি গো জায়ান, ডেটা প্রতিষ্ঠান অ্যানালাইজেন, অভ্যন্তরীণ রুটে পণ্যবাহী নৌযান ভাড়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠান জাহাজী।

    প্রবাসী হেল্পলাইনের পরামর্শক হিসেবে যারা কাজ করছেন-

    ১) দিলশাদ হোসেন দোদুল –স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক এবং এরাসমুস স্কলার।

    ২) সুদীপ্ত সরকার – বিপিএম পাওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা একজন মিডিয়া এবং অপরাধতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ।

    ৩) রামীম হাসান – উন্নয়ন কর্মী ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ। অভিবাসী বিষয়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কাজ করেছেন এক দশকের বেশী।

    ৪) রোহান জিয়াদ - ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রথম সারির অনলাইন সংবাদপত্র, খবর-ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করে আসছেন। অর্থ-বাণিজ্য, উৎপাদন খাত, পরিবেশ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, অভিবাসন বিষয়ক সংবাদে বিশেষায়িত।।

    ৫) রাসেল মাহমুদ – সাংবাদিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এক যুগের বেশী সময় ধরে।

    ৬) সালেহ্ রাব্বী জ্যোতি - গবেষক- সাংবাদিক- পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন এক দশক, দেশী-বিদেশী গণমাধ্যম ও প্রকাশনা সংস্থার জন্য।

    ৭) শফিকুল ইসলাম মিলটন – গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ কর্মকর্তা। বাংলাদেশের প্রথম সারির একাধিক সংবাদপত্রে কাজ করেছেন ৫ বছরের অধিক সময়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত।

    এবং অমিতাভ দেউরী- গবেষক-কিউরেটর-যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিশেষজ্ঞ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মিডিয়া জগতে কর্মরত।